নেপাল-তিব্বত বন্যায় মৃত্যু ৫৮৪, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

নেপাল-তিব্বত বন্যা প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে নেপালে ৫৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তিব্বতে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯২৪ জনে পৌঁছেছে। তিব্বতে আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই অঞ্চলে নিখোঁজের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।
নেপাল-তিব্বত বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি ও নিখোঁজ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন হ্রদ তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকাজও জটিল হয়ে পড়েছে। তাই কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দলকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে যেতে হয়েছে।
হ্রদের পানি উপচে পড়ায় নতুন বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
চিলিমে এলাকার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী কমল খারেল ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
তার ভাষ্য, পুরো এলাকা ভূমিকম্পের মতো কাঁপছিল। বাইরে গিয়ে তিনি প্রচণ্ড জলরাশি ও সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উঁচু স্রোত দেখেন।
অন্যদিকে নুয়াকোটের সোলে গ্রামের সাংবাদিক নিরাজন পৌড়েল নিখোঁজ বাবা-মা ও স্বজনদের খুঁজছেন। এখনো তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নতুন হ্রদে বাড়ছে উদ্ধারকাজের ঝুঁকি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, ধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর পানি বাড়লে আবারও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক খবর জানতে আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।
এদিকে জাতিসংঘ জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয়কে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে কাজ করছে।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সৃজনা গুরুং বলেছেন, নেপাল ধারাবাহিক জলবায়ু ধাক্কার মুখে রয়েছে।
তার মতে, বন্যা ও ভূমিধসের তীব্রতা এবং ঘনত্ব বাড়ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মায়া ওয়াং তিব্বতে তথ্যপ্রবাহ ও প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি আন্তর্জাতিক গবেষক ও সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রেড ক্রসের হিসাবে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
তাই উদ্ধার, চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
নেপাল-তিব্বত বন্যা পরবর্তী আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।













