শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

এসিআর পরিবর্তনের অভিযোগে পটুয়াখালীর ৬ ভূমি কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এসিআর পরিবর্তনের অভিযোগে পটুয়াখালীর ৬ ভূমি কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে ছয়জনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেছে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন।

এসিআরের নম্বর অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই বিভাগীয় প্রশাসন এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে তারা পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না।

পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি: অভিযোগের বিবরণ

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন যাচাই করেছে বিভাগীয় প্রশাসন। এতে নম্বর পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার দেওয়া নম্বর পরিবর্তন করেছিলেন অভিযুক্তরা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

অননুমোদিত পরিবর্তন সরকারি নথির গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

তদন্তে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ৩(খ) বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া হয়।

বিধিমালার ৪(২)(খ) বিধি অনুযায়ী তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত হয়েছে। শাস্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুনে শেষ হবে।

শাস্তি পাওয়া ছয় কর্মকর্তার পরিচয়

আমখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তানিয়া আক্তার ঝুমা শাস্তি পেয়েছেন। একই তালিকায় রয়েছেন পটুয়াখালী সদরের মোহাম্মদ মাহাতাব।

মাহাতাব বর্তমানে পৌর ভূমি অফিসে সংযুক্ত রয়েছেন। বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আল কাউছারও দণ্ড পেয়েছেন।

গলাচিপার ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা এ এস এম মুরাদুল ইসলাম তালিকায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আবু আসকরও শাস্তি পেয়েছেন। দশমিনার রণগোপালদীর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামও দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত

অভিযোগ পাওয়ার পর প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্তরা নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব জমা দেন। ব্যক্তিগত শুনানিতেও তারা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এরপর সংশ্লিষ্ট তথ্য, প্রতিবেদন ও নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

বুধবার বিভাগীয় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়। এতে ছয় কর্মকর্তার জন্য একই শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে।

শাস্তির আদেশ প্রত্যেক কর্মকর্তার চাকরির নথিতে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাদের পদোন্নতিও বন্ধ থাকবে।

পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি ও কঠোর বার্তা

পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রশাসনে কঠোর বার্তা দিয়েছে। সরকারি নথির যথার্থতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ দায়িত্ব পালনে সততা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছেন।

তার মতে, নথিতে অননুমোদিত পরিবর্তন প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য বিকৃতির অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হবে।

প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিভাগীয় প্রশাসন নথির নির্ভুলতাকে জবাবদিহির প্রধান ভিত্তি মনে করে। তাই অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি অন্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও সতর্কবার্তা। সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাভিউয়ের সর্বশেষ জাতীয় সংবাদ

ভিডিও সংবাদ: বাংলাভিউয়ের ভিডিও সংবাদ দেখুন

gaedh

বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগে মেগা দুর্নীতি: নদী খননের নামে শত কোটি টাকা লুটপাট

মানছুরা আক্তার মায়া, বিশেষ প্রতিনিধি; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ এম
বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগে মেগা দুর্নীতি: নদী খননের নামে শত কোটি টাকা লুটপাট

{"remix_data":[],"source_tags":[],"total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":4,"transform":7},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false,"used_sources":{"version":1,"sources":[{"id":"364670318066211","type":"ugc"}]}}

  • ১-ড্রেজিং প্রকল্পের নামে হরিলুট ও জালিয়াতি!
    ২-​ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিক নির্যাতন!
    ৩-রামপুরা ও আফতাবনগরে বেনামি সম্পদ!
    ৪-মেগা দুর্নীতিতে সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার!

​নিজস্ব প্রতিবেদক,
​বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগে নদী খনন ও নৌপথ উন্নয়নের নামে নজিরবিহীন লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের আশীর্বাদপুষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ড্রেজিং প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনুসন্ধানী নথিপত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।​

অভিযুক্তদের তালিকায় বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) ও বর্তমান সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার এবং বরিশাল অঞ্চলের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. মামুন উর রশিদের নাম প্রধানত উঠে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া বিল উত্তোলন এবং বেনামি সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে দুদক এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধান ও নজরদারি চলমান রয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলা, লাহারহাট, বরগুনা, আমতলী, পটুয়াখালী এবং বরিশাল সদর নৌ-পথে নদী খনন বা ড্রেজিং প্রকল্পের নামে হরিলুট চালানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ড্রেজার পুরোপুরি সচল না রেখেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের ভুয়া বিল উত্তোলন করা হতো। এছাড়া, নামমাত্র খননকাজ দেখিয়ে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নদী থেকে উত্তোলিত বালু পুনরায় নদীতেই ফেলে দেওয়ার মতো অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হতো, যার ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হলেও নৌপথের কোনো স্থায়ী সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি।

​নিজস্ব সরকারি ড্রেজার সচল থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে চড়া দামে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার প্রমাণও মিলেছে। সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

​বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের সংবাদ ডিলিট করতে বাধ্য করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সাংবাদিক ও প্রতিবাদী ব্যক্তিদের কণ্ঠ রোধ করতে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এর অংশ হিসেবে ঢাকার মতিঝিল থানায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবাদী কন্ঠ দমনে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকির আশ্রয় নেওয়া হয়। নদী খনন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ রাজধানী ঢাকার রামপুরা, মেরুল বাড্ডা ও আফতাবনগরসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বেতন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যহীন এই বিশাল সম্পদ রক্ষার্থে অনেক স্থাবর সম্পত্তি নিকটাত্মীয় ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের নামে (বেনামি) রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও নগদ হিসেবে জমা রাখা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

​ড্রেজিং বিভাগের অনিয়ম ও খনন প্রকল্প ঘিরে বিআইডব্লিউটিএ-এর সদস্য (প্রকৌশল) এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদারের ভূমিকাও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ড্রেজিং বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর একক নিয়ন্ত্রণ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিদেশি উন্নত ড্রেজার ক্রয়ের শিডিউল অমান্য করে দেশীয় নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’-এর সচলতার নামে ভুয়া জ্বালানি বিল প্রস্তুতের চাঞ্চল্যকর তথ্য খতিয়ে দেখছে দুদক। ​তাছাড়া, রাজউকের পূর্বাচল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গাজীপুর এবং নিজ এলাকা টাঙ্গাইলে তাঁর নামে-বেনামে বহুতল বাড়ি ও কয়েক একর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইরেকটর্স’-এর মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। ​

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল মনে করছে, দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফলাইন খ্যাত নৌপথগুলোকে সচল রাখতে ড্রেজিং খাতের এই মেগা দুর্নীতি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই উন্মোচন করা জরুরি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)সহ বিভিন্ন সুশীল সমাজ বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। ​বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ সেলে এই সংক্রান্ত নথিপত্র ও অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন সমাজ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

প্রিয় পাঠক,
আমরা শুধু সংবাদ প্রচার করেই থেমে থাকি না যতক্ষণ না পর্যন্ত দুর্নীতি অনিয়ম নির্মূল না হবে ততক্ষণ আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে দেওয়া হবে। প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনগত তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিঃদ্রঃ
দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব; বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে।

 

গণপূর্তে আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে দুদকে আবেদন

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৭ এম
গণপূর্তে আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে দুদকে আবেদন

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি এবং জমি-সংক্রান্ত ব্যবসায় তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।

​অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজান। তাঁর পাশাপাশি উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু, সহকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাসার, উপসহকারী প্রকৌশলী ই/এম আব্দুর রউফ এবং সহকারী প্রকৌশলী ই/এম গুলনাহারের বিরুদ্ধেও ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন অনুসন্ধানী তথ্য, দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচার-প্রচারণা বিশ্লেষণ করে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ডেভেলপার ব্যবসায় কথিত সম্পৃক্ততা এবং ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

​অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণ এবং ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ডেভেলপার নেটওয়ার্কে আব্দুর রউফের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের ওয়াশপুর টাওয়ারে অবস্থিত একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের ঠিকানাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঠিকানায়—অফিস-২, ১৮/৪, নিচতলা, ওয়াশপুর টাওয়ার, ওয়াশপুর, মোহাম্মদপুর-বসিলা ব্রিজসংলগ্ন, ঢাকা—কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। ​দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফকে মোবাইল ফোনে কোনো ভবনের কোন তলার কোন ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা হবে—এমন বিষয়ে কথোপকথন চালাতে শোনা গেছে। তবে এসব কথোপকথনের পেছনের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর প্রকৃত সম্পর্ক এবং কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনুসন্ধানে ‘ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বিল্ডিং ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন, স্ট্রাকচারাল ও আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, ইলেকট্রিক্যাল-প্লাম্বিং ডিজাইন, রাজউক প্ল্যান পাস, মাটি পরীক্ষা এবং ইন্টেরিয়র সলিউশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচার করে থাকে।

​প্রতিষ্ঠানটির মোহাম্মদপুরের ওয়াশপুর, মিরপুরের গৈদারটেক, উত্তরা দিয়াবাড়ি এবং সাভার-নবীনগর এলাকায় কার্যক্রম বা কার্যালয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের দুই ভাই এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে একজনের হেড অব মার্কেটিং হিসেবে কাজ করার তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে থাকা মিজানুর রহমান সরাসরি ব্যবসায় যুক্ত না থেকে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে এই ডেভেলপার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ‘ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর সঙ্গে গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাসারের কথিত পার্টনারশিপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর সহোদর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ-উল আলমের মাধ্যমে ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ​এ ছাড়া আবুল বাসারের সহধর্মিণী গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী ই/এম গুলনাহারের বিরুদ্ধেও কথিত ডেভেলপার ব্যবসার কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

​গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু দীর্ঘদিন ধরে সাভার গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা-আশুলিয়া ও আব্দুল্লাহপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার ভ্যালুয়েশন কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাভার গণপূর্তের পর্যটন এলাকার আশপাশের জমিতে দোকান ভাড়া বা পজিশন বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের লাভজনক ব্যবসা বা বাণিজ্যে সরাসরি যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গণপূর্তের প্রকৌশলীরা সরকারি নির্মাণকাজের প্রাক্কলন, তদারকি ও বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ফলে একই সময়ে কোনো প্রকৌশলী ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণ বা ডেভেলপার ব্যবসায় জড়িত থাকলে সেখানে গুরুতর স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

​আব্দুর রউফসহ অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে তাঁদের কথিত ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ব্যাংক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। ​অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি, ভিডিও, যোগাযোগের তথ্য ও আর্থিক প্রবাহ যথাযথভাবে যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

ইরানে সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ১১ দেশে মার্কিন সতর্কতা জারি

বাংলাভিউ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৩ পিএম
ইরানে সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ১১ দেশে মার্কিন সতর্কতা জারি

ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১১টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো মঙ্গলবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

এসব সতর্কতায় অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

ইরান নিয়ে মার্কিন সতর্কতা ও দেশত্যাগের নির্দেশ

তেহরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এক জরুরি বার্তায় ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই ইরানে ভ্রমণ না করার জন্য নাগরিকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্চুয়াল দূতাবাসের ভাষ্যমতে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এর আগে পরবর্তী সংঘাতে আরও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান

সাম্প্রতিক এই সতর্কতা তাই ওই অঞ্চলে অবস্থানরত নাগরিকদের চলাচল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধের আশঙ্কা

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

যাত্রীদের নির্ধারিত যাত্রার আগে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা বার্তার দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও এ সতর্কতার মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক নিরাপত্তা বার্তাতেও মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা পরিবেশ, অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা বৃদ্ধি, ফ্লাইট বাতিল, সাময়িক আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে।

যেসব দেশে সতর্কতা জারি

তেহরানের পাশাপাশি বাহরাইন, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।

তালিকাটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি লেভান্ত অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাভিউয়ের আগের প্রতিবেদনে নতুন মার্কিন বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।

নতুন সতর্কতা জারির পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কূটনৈতিক মিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের WhatsApp চ্যানেল অনুসরণ করুন।

দ্রুত আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন।