Published On: Tue, Jun 18th, 2013

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আগে খুঁটিনাটি জেনে নিন

Share This
Tags

ব্যাগে কত টাকা নিয়ে আপনি বের হবেন, পথে তো নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়তে হতেই হয়। এর সহজ সমাধান দিতে পারে ক্রেডিট কার্ড। এটি ব্যবহারের ফলে সব সময় টাকা বহন করার প্রয়োজন নেই। তবে অনেকে বেশি খরচ করে ফেলে পরে ঝামেলায় পড়তে পারেন। কার্ড cardহারিয়েও বিপদে পড়েন অনেকে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আগে তাই জেনে নিন এর খুঁটিনাটি।
ক্রেডিট কার্ডের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন।
সাধারণত ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী বা অন্য পেশাজীবী, যাঁদের আয় আছে এবং বৈধ টিন (ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর) আছে, তাঁরা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ডের সীমা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো রকম জামানত ছাড়া একটি ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বা টাকা খরচ করার সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত গ্রাহকের মাসিক আয়ের ভিত্তিতে কার্ডের সীমা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে আপনার অবশ্যই একটা বৈধ টিন থাকতে হবে। গ্রাহকের কার্ড ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সীমার বেশি কেনাকাটা করার সুযোগ দিতে পারে।
দিনে বা মাসে কত টাকা তোলা যায় এ বিষয়টি পুরোই নির্ভর করে কার্ডের সীমা কত তার ওপর; যতক্ষণ পর্যন্ত কার্ডের খরচের সীমা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কার্ড ব্যবহারে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে কিছু কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শর্ত আরোপ করে। যেমন সীমার অর্ধেকের বেশি নগদ টাকা তোলা যাবে না।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সতর্কতা
ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দেশের ভেতরে বা দেশের বাইরে যেকোনো জায়গায় কেনাকাটা করার সময় লক্ষ রাখতে হবে:
১  কেনাকাটার পর কার্ডটি যেন আপনার সামনেই মেশিন ব্যবহার করা হয়।
স্লিপে সই,  করার আগে দেখে নিতে হবে আপনি যে পরিমাণ টাকার কেনাকাটা করেছেন, স্লিপে সেই পরিমাণ টাকাই উল্লেখ রয়েছে কি না।
অন্তত মাসিক বিল আসার আগ পর্যন্ত আপনার স্লিপটি সংরক্ষণ করুন।

ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার, ক্রেডিট কার্ড এক ধরনের ঋণ। স্বাভাবিকভাবেই কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা করে যে গ্রাহক অন্য যেকোনো ঋণের মতোই কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধ করবেন। যদি কোনো কারণে বিল পরিশোধ না করা যায়, তবে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করতে হবে। সাধারণত সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে গ্রাহককে জরিমানা দিতে হয়। আপনার কাছে যদি কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো পাওনা থাকে, তাহলে তার ওপর সুদ দিতে হবে; মাসিক ভিত্তিতে শতকরা দুই ভাগ থেকে শতকরা ২ দশমিক ৫ ভাগ পর্যন্ত সুদ হতে পারে; কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন আপনার কার্ডের সুদ কত; অনেক কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদবিহীন দেনা পরিশোধ করার সুযোগ

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে
১  ক্রেডিট কার্ড হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পেছনের নির্ধারিত অংশে স্বাক্ষর করতে হবে।
২  কোনো অবস্থাতেই ক্রেডিট কার্ড অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।
৩  আপনার ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত গোপন নম্বর কাউকে জানাবেন না। মনে      রাখতে হবে, এই গোপন নম্বরটি নিরাপদ রাখার দায়িত্ব আপনারই।
৪  বিভিন্ন কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নানা রকম কার্ডের সঙ্গে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। আপনার প্রাপ্য সুবিধাগুলো কার্ড ব্যবহারের আগে ভালোভাবে জেনে নিন।
৫ আপনার কার্ডের সুদের হার, বিভিন্ন রকম ফি, ন্যূনতম মাসিক প্রদেয় ইত্যাদি বিষয় পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
ক্রেডিট কার্ড যদি হারিয়ে যায়
কার্ড যদি হারিয়ে যায়, চুরি বা ছিনতাই হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে, গোপন নম্বর বা পিন ছাড়া এটিএম বুথ থেকে কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা যায় না। কিন্তু কেনাকাটা করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কার্ড হারিয়ে বা চুরি কিংবা ছিনতাই হয়ে যাওয়ার এক-দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি পরে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয় এবং এর মধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, কার্ড হারিয়ে গেছে কিংবা চুরি বা ছিনতাই হয়ে গেছে এই তথ্য কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা কার্ডটি বন্ধ করে দেয়। আর এই তথ্য কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান না জানা পর্যন্ত কার্ডে যা লেনদেন হয়, তার দায়দায়িত্ব গ্রাহককে নিতে হয়।

ক্রেডিট কার্ডে রয়েছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট
কিছু কিছু কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে লেনদেন করার জন্য রিওয়ার্ড পয়েন্ট বা ক্যাশ ব্যাক সুযোগ দেয়, এ ছাড়া বছরজুড়ে নানা ধরনের ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকে। এ বিষয়গুলো বিস্তারিত জানতে আপনার কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মনে রাখতে হবে
১  ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানার উদ্দেশ্যে আপনার কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করতে কখনোই কুণ্ঠিত হবেন না।
২  কার্ড হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে ভুলবেন না।
৩  কার্ডের সিকিউরিটি নম্বর দেশের বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই মুখস্থ রাখার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পিন এবং আপনার কার্ড যেন কখনোই একসঙ্গে না থাকে। যেমন আপনার ওয়ালেটে যদি কার্ড থাকে তবে কখনোই কাগজে পিন লিখে ওয়ালেটে রাখবেন না। তাহলে কার্ড যে পাবে, সে পিনও পেয়ে যাবে। যেকোনো বিপদে বা জরুরি প্রয়োজনে তৎক্ষণাৎ আপনার কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা এর কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।
৪  দেশের বাইরে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার কার্ডে এনডোর্সমেন্ট হয়েছে কি না; কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে রাখুন আপনি বাইরে যাচ্ছেন।
৫  দেশে ফিরে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করুন; অধিকতর নিরাপত্তার জন্য দেশে ফেরার পর কার্ডটি যেন দেশের বাইরে ব্যবহার করা না যায়, সেই ব্যবস্থা নিতে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিতে হবে।
৬  কোনো কারণে যদি ব্যবহার করতে করতে কার্ডের কোনো অংশ মুছে যায় বা কার্ডের পেছনের সংখ্যাগুলো উঠে যায়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করুন এবং নতুন একটি কার্ড ইস্যু করতে বলুন; মনে রাখবেন, নতুন কার্ড ইস্যু করার জন্য আপনাকে ফি প্রদান করতে হবে।
৭  অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সীমার বেশি কেনাকাটা করার জন্য গ্রাহককে ফি দিতে হয়; আপনার ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারীর কাছ থেকে এ বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

ক্রেডিট কার্ডে ব্যবহারে সাবধানতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নানা তথ্য।
১ ক্রেডিট কার্ড দেশের বাইরে নিয়ে গেলে অবশ্যই সিকিউরিটি কোড পাসওয়ার্ড, পিন এগুলো মনে রাখতে হবে। মনে না রাখলে বিপদে পড়তে হবে।
২  ক্রেডিট কার্ড সব সময় নিজের হাতে রাখতে হবে, তা না হলে অন্য কেউ আপনারটা ব্যবহার করতে পারে।
৩  ক্রেডিট কার্ডে বার্ষিক চার্জ কত সেটা আগেই দেখে নিন।
৪  মাসিক বিল দিতে হবে গ্রাহককেই, কাজেই যেটা খরচ হবে মাসের শেষে তা পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে জমা না দিলে জরিমানা দিতে হবে তাকে।

Leave a comment

You must be Logged in to post comment.