বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগে মেগা দুর্নীতি: নদী খননের নামে শত কোটি টাকা লুটপাট

{"remix_data":[],"source_tags":[],"total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":4,"transform":7},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false,"used_sources":{"version":1,"sources":[{"id":"364670318066211","type":"ugc"}]}}

- ১-ড্রেজিং প্রকল্পের নামে হরিলুট ও জালিয়াতি!
২-ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিক নির্যাতন!
৩-রামপুরা ও আফতাবনগরে বেনামি সম্পদ!
৪-মেগা দুর্নীতিতে সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার!
নিজস্ব প্রতিবেদক,
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগে নদী খনন ও নৌপথ উন্নয়নের নামে নজিরবিহীন লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের আশীর্বাদপুষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ড্রেজিং প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনুসন্ধানী নথিপত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) ও বর্তমান সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার এবং বরিশাল অঞ্চলের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. মামুন উর রশিদের নাম প্রধানত উঠে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া বিল উত্তোলন এবং বেনামি সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে দুদক এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধান ও নজরদারি চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলা, লাহারহাট, বরগুনা, আমতলী, পটুয়াখালী এবং বরিশাল সদর নৌ-পথে নদী খনন বা ড্রেজিং প্রকল্পের নামে হরিলুট চালানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ড্রেজার পুরোপুরি সচল না রেখেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের ভুয়া বিল উত্তোলন করা হতো। এছাড়া, নামমাত্র খননকাজ দেখিয়ে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নদী থেকে উত্তোলিত বালু পুনরায় নদীতেই ফেলে দেওয়ার মতো অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হতো, যার ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হলেও নৌপথের কোনো স্থায়ী সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি।
নিজস্ব সরকারি ড্রেজার সচল থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে চড়া দামে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার প্রমাণও মিলেছে। সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের সংবাদ ডিলিট করতে বাধ্য করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সাংবাদিক ও প্রতিবাদী ব্যক্তিদের কণ্ঠ রোধ করতে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর অংশ হিসেবে ঢাকার মতিঝিল থানায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবাদী কন্ঠ দমনে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকির আশ্রয় নেওয়া হয়। নদী খনন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ রাজধানী ঢাকার রামপুরা, মেরুল বাড্ডা ও আফতাবনগরসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বেতন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যহীন এই বিশাল সম্পদ রক্ষার্থে অনেক স্থাবর সম্পত্তি নিকটাত্মীয় ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের নামে (বেনামি) রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও নগদ হিসেবে জমা রাখা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
ড্রেজিং বিভাগের অনিয়ম ও খনন প্রকল্প ঘিরে বিআইডব্লিউটিএ-এর সদস্য (প্রকৌশল) এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদারের ভূমিকাও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ড্রেজিং বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর একক নিয়ন্ত্রণ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিদেশি উন্নত ড্রেজার ক্রয়ের শিডিউল অমান্য করে দেশীয় নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’-এর সচলতার নামে ভুয়া জ্বালানি বিল প্রস্তুতের চাঞ্চল্যকর তথ্য খতিয়ে দেখছে দুদক। তাছাড়া, রাজউকের পূর্বাচল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গাজীপুর এবং নিজ এলাকা টাঙ্গাইলে তাঁর নামে-বেনামে বহুতল বাড়ি ও কয়েক একর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইরেকটর্স’-এর মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল মনে করছে, দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফলাইন খ্যাত নৌপথগুলোকে সচল রাখতে ড্রেজিং খাতের এই মেগা দুর্নীতি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই উন্মোচন করা জরুরি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)সহ বিভিন্ন সুশীল সমাজ বিআইডব্লিউটিএ-এর ড্রেজিং বিভাগে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ সেলে এই সংক্রান্ত নথিপত্র ও অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন সমাজ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
প্রিয় পাঠক,
আমরা শুধু সংবাদ প্রচার করেই থেমে থাকি না যতক্ষণ না পর্যন্ত দুর্নীতি অনিয়ম নির্মূল না হবে ততক্ষণ আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে দেওয়া হবে। প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনগত তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিঃদ্রঃ
দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব; বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে।












