Published On: Wed, Jun 29th, 2016

ইয়াবার ছোবলে বাংলাদেশ

Share This
Tags

yaba

মাদকের ভয়ংকর নেশা দেশের তরুণসমাজের একটি বড় অংশকে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে চলেছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে গেছে ইয়াবা নামের মরণনেশা। গড়ে উঠেছে ইয়াবা সিন্ডিকেট। একেকটি সিন্ডিকেটের অধীনে রয়েছে অনেক ব্যবসায়ী ও এজেন্ট। ইয়াবাসহ যেকোনো মাদক ব্যবসায়ীর প্রধান লক্ষ্য উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণরা। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি যে কী, তা বুঝতে কারো বাকি থাকার কথা নয়। দিনে দিনে মাদকাসক্ত তথা ইয়াবা আসক্তরা জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধে। নিজেদের নেশার অর্থ জোগাড় করতে নিজেরাই একসময় বাহক কিংবা বিক্রেতা হয়ে যায়। এভাবেই সমাজে অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে। সমাজের বিত্তবান ও ভদ্র ঘরের সন্তানদের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরাও সর্বনাশা এ নেশার জগৎ ঘিরে গড়ে তোলে বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট। বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট হলেও মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজন মাদক বিক্রেতা ধরা পড়লেও এই ব্যবসার মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সারা দেশে যেভাবে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সহজলভ্য হয়ে উঠছে কিশোর-তরুণদের কাছে। আগে মাদক আসত চোরাচালান হয়ে, এখন দেশের ভেতরেই অবৈধভাবে এটি তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালীদের অনেকেই এখন এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। রাজধানী ঢাকাতেই এক প্রভাবশালীর ছেলে ইয়াবার কারখানা গড়ে তুলেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকালের কালের কণ্ঠে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনে এভাবে মাদক বাণিজ্যের বিস্তার ঘটানো যায় ভাবতেও অবাক লাগে। এর আগে প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে ইয়াবার ২০০ সক্রিয় ডিলার রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইয়াবার কারখানা গড়ে তুলে যেভাবে ওষুধের ডেলিভারি ভ্যানে নির্দিষ্ট এজেন্টদের কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, এককথায় তা ভয়াবহ। ভয়ংকর মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। রাজধানী ঢাকা শুধু নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও গড়ে উঠেছে ইয়াবা সিন্ডিকেট। এর শিকার হচ্ছে তরুণসমাজ। কারবারিদের জালে ধরা দিয়ে উঠতি বয়সী কিশোররাও এই মাদকে আকৃষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যা-ই হোক না কেন, আমরা চাই মাদক ব্যবসায়ীদের বিচার হোক। এই ব্যবসায়ীরা সমাজ ও দেশের শত্রু। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দিয়ে এরা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ সিদ্ধি করতে চায়। জাতির এই শত্রুদের মুখোশ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। এখন এদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এদের জাতীয় শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে দমন করতে হবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ইয়াবা বাণিজ্যের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।  ডেস্ক রিপোর্ট – ঢাকা বিডি ২৪

- তথ্য সুত্র – কালের কণ্ঠ